নিজস্ব প্রতিবেদক | Bartashundhu.com
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে একটি দাবি, যেখানে বলা হচ্ছে—ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ন্যূনতম এইচএসসি এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এ বিষয়ে কোনো নতুন আইন বা গেজেট জারি হয়নি।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ এসএসসি, এইচএসসি বা অন্য কোনো শিক্ষাগত সনদ না থাকলেও আইনগতভাবে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে তা অযোগ্যতার কারণ নয়।
প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, ন্যূনতম ২৫ বছর বয়সী হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভোটার হতে হবে। এছাড়া আইনে উল্লেখিত অন্যান্য অযোগ্যতার কারণ প্রযোজ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। ইউপি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—এমন গুজবও অতীতে একাধিকবার ছড়িয়েছে। সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান বিষয়টি যাচাই করে দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে নিশ্চিত করেছিল।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা ভোটারদের ক্ষেত্রে ভোটার নিবন্ধনের সময় এসএসসি বা সমমানের সনদ ডাটাবেজে সংযুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে এটি শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার তথ্য যাচাই সহজ করার জন্য; নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
তাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য পদে এসএসসি পাস বাধ্যতামূলক—এমন কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখলে তা বিশ্বাস বা শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


