নিজস্ব প্রতিবেদক | Bartashindhu.com
কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নকল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেই দায় নিতে হবে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুরে শিক্ষা বোর্ডগুলোর সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে নকলের ধরন ও কৌশল পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে কোনো পরীক্ষার্থী নকল করতে ধরা পড়লে শুধু শিক্ষার্থীকে দায়ী করলেই চলবে না, বরং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, “ধরুন কোনো প্রতিষ্ঠানে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী নকল করতে ধরা পড়ল। তার বয়স যদি ১৬ বছর হয়, তাহলে সে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই যে প্রতিষ্ঠানে নকল ধরা পড়বে, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেই এর দায়ভার নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষার্থীদের ইন-হাউজ কোচিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কিছু শিক্ষক সামান্য বিষয়েও মামলা-মোকদ্দমার পথে যাচ্ছেন, যা শিক্ষা খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজন ও ফল প্রকাশে প্রায় এক বছর সময় লাগলেও বর্তমান সরকার সেই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। তিনি জানান, ২০২৭ সাল থেকে জানুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং একই বছরের ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্যাতনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, “এখন প্রযুক্তির যুগ। কোথাও কোনো অনিয়ম বা নির্যাতন হলে তা সহজেই সামনে চলে আসে। প্রতিটি জায়গায় এখন খুদে ক্যামেরাম্যান রয়েছে। তাই এসব অপকর্ম করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Bartashindhu.com
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে জনতার আস্থা।


