প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৬, ২০২৬, ১১:৩৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৯, ২০২৬, ১:০৫ এ.এম
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি যদি শুধু কাগজে থাকে, তবে সেই সম্মান এক নির্মম প্রহসন
একজন সাংবাদিক যখন সত্য তুলে ধরতে মাঠে নামেন, তখন তিনি শুধু সংবাদ সংগ্রহ করেন না; জনগণের জানার অধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্বও পালন করেন। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি কোনো সাংবাদিক গুরুতর আহত হন, দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকেন এবং পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে তা শুধু একজন ব্যক্তির দুর্ভাগ্য নয়—এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে।
হালুয়াঘাটের মানবকণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক মো. শফিকুল ইসলাম (দুখু) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এখনও উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে বলে তার পরিবার ও সহকর্মীরা দাবি করে আসছেন।
যদি সত্যিই তিনি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে "জুলাই যোদ্ধা" হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে থাকেন, তবে সেই স্বীকৃতির সঙ্গে বাস্তব সহায়তাও থাকা উচিত। স্বীকৃতি কেবল একটি সনদ, গেজেট বা সম্মাননাপত্রে সীমাবদ্ধ থাকলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। একজন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা, পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সেই স্বীকৃতির বাস্তব প্রতিফলন।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল সম্মাননা প্রদান নয়; আহত ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
যখন কোনো ভুক্তভোগী বছরের পর বছর চিকিৎসা, প্রশাসনিক সহায়তা কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকেন, তখন সমাজে হতাশা তৈরি হয়। একই সঙ্গে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বাস্তব মূল্য কতটুকু?
সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। যারা সত্য প্রকাশের জন্য জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর সহায়তা দেওয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
বার্তাসিন্ধু ডট কম বিশ্বাস করে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। যদি আহত সাংবাদিকের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত দাবিগুলো বাস্তবসম্মত হয়, তবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার বিচারিক ও প্রশাসনিক অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রের মর্যাদা কেবল স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্যে নয়, সেই স্বীকৃতির যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত। যারা সত্যের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনই একটি মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের পরিচয়।